![]() |
| 33/11 KV Transformer |
ট্রান্সফরমার কি এবং কিভাবে কাজ করে? Working Principle of Transformer
ট্রান্সফরমার কি
সহজ
কথায় বলা যায়, এমন একটি ইলেক্ট্রনিক/ ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্র যেটি ইনপুট
হিসেবে ইলেক্ট্রিক পাওয়ার নিয়ে আউটপুটেও ইলেকট্রিক পাওয়ার দিবে, কিন্তু
এদের মধ্যে কোন তারের সংযােগ থাকবে।
কিন্তু, তাত্ত্বিক ভাবে বলতে গেলে বলতে হবে, ” ট্রান্সফরমার এমন একটি স্থির যন্ত্র বিশেষ যেখানে কারেন্টের সাপেক্ষে, এসি সাপ্লাই এর ভােল্টেজ বাড়ানাে হয় নয়ত কমানাে হয়”।
ট্রান্সফরমার কেন ব্যবহার করা হয় ?
ধরুন পাওয়ার স্টেশন থেকে আপনার বাসা অনেক দূরে। তখন আপনি যদি আপনার প্রয়ােজনীয় ভােল্টেজ পেতে চান তাহলে সেখানে একটি স্টেপআপ ট্রান্সফরমার দিয়ে বাড়িয়ে তা দূরবর্তী T স্থানে যেখানে আপনার বাসা অবস্থিত, সেখানে। সঞ্চালিত করা হয়। আবার, আপনার বাসায় এসি লাইন দিয়ে সরাসরি শখের প্রজেক্ট কিংবা সার্কিট কিংবা জরুরী ব্যবহার্য্য টিভি, ডিভিডি, টর্চ, চার্জ | লাইট ইত্যাদি কে কখনই চালাতে পারবেন না। প্রথমে আপনাকে অবশ্যই মেইন লাইনের ভােল্টেজ কে কমিয়ে উক্ত সার্কিট বা যন্ত্রের উপযুক্ত করতে হবে। আর এই কাজটিই করে থাকে ট্রান্সফরমার।
ট্রান্সফরমার মূলত কি কি জিনিস নিয়ে তৈরি হয়
ট্রান্সফরমার মূলত নিম্নোক্ত জিনিস গুলাে দ্বারা তৈরি হয়।
১। প্রাইমারী কয়েল
২। সেকেন্ডারী কয়েল ও
৩। ম্যাগনেটিক কোর
এছাড়াও প্রকারভেদ ও প্রয়ােজন অনুসারে আরাে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ব্যবহার হয়ে থাকে।
1. Core
2. Winding
3. Insulation
4. Tank
5. Terminals and bushings
6. Transformer oil
7. Oil Conservator
8. Breather
9. Radiators and fans
10. Explosion vent
11. Tap Changers
12. Buchholz relay
ট্রান্সফরমার কোন নীতিতে কাজ করে
আসলে ট্রান্সফরমার মিউচুয়াল ইন্ডাকশন নীতিতে কাজ করে থাকে । অর্থাৎ প্রাইমারী কয়েলে যদি বিদ্যুৎ প্রবাহিত করি তাহলে এর চার পাশে একটি ম্যাগনেটিক ফিল্ড বা তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশের সৃষ্টি হয়। আর এই ফিল্ড থেকে ফ্লাক্স সংগ্রহ করে সেকেন্ডারী কয়েল। তখন তাদের মধ্যে একটি মিউচুয়াল/কমন ইন্ডাকশন এর তৈরি হয়। যার ফলে সেকেন্ডারীতে তড়িৎ প্রবাহিত হয়। এই প্রবাহিত তড়িৎ এর মান নির্ভর করে সেকেন্ডারী ও প্রাইমারী তে ব্যবহৃত প্যাচ সংখ্যার উপরে। যাকে বলে ট্রান্সফরমারমেশন রেশিও।
ট্রান্সফরমার এর ক্ষমতার একক কি এবং কেন
ট্রান্সফরমারের ক্ষমতার একক কেভিএ (KVA)। অর্থাৎ কিলােওয়াট ভােল্ট এম্পিয়ার। কারণ টা হল, আমরা জানি যেকোন মেশিনের ক্ষমতার একক নির্ধারণ করা হয় তার লস এর উপর ভিত্তি করে।
ট্রান্সফরমারের লস গুলাে হল :
১. আয়রন লস/কোর লস
২. কপার লস
আচ্ছা, তাে এখন আয়রন লস মানেই ভােল্টেজ এর ব্যাপার, আর কপার লস মানেই কারেন্ট এর লস। তাহলে মােটের উপর দাঁড়াল ভােল্ট এম্পিয়ার। এ জন্যেই ট্রান্সফরমার এর ক্ষমতার একক হিসেবে কিলােওয়াট ভােল্ট এম্পিয়ার বা কেভিএ লেখা হয়ে থাকে।
স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার কাকে বলে ?
যে ট্রান্সফরমারের প্রাইমারীতে ভােল্টেজ দিলে সেকেন্ডারীতে উচ্চ ভােল্টেজ পাওয়া যায় তাকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে। আমরা ইউপিএস, আইপিএস, ইনভার্টার প্রভৃতি যন্ত্রপাতিতে যে ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে থাকি সেগুলাে স্টেপআপ প্রকৃতির ট্রান্সফরমার।
স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার কাকে বলে
যে ট্রান্সফরমার এর প্রাইমারীতে ভােল্টেজ দিলে সেকেন্ডারীতে অপেক্ষাকৃত নিম্ন ভােল্টেজ পাওয়া যায় তাকে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার বলে। বেশীরভাগ ঘরের যন্ত্রপাতি যা আমরা ব্যবহার করি সেগুলাের ভেতরে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমারই ব্যবহার করা হয়।
ট্রান্সফরমার রেশিও বলতে কি বুঝায়?
ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি কয়েলের ভােল্টেজ, প্যাচ সংখ্যা ও কারেন্টের মধ্যে যে সম্পর্ক থাকে, তাকে ট্রান্সফরমারের ট্রান্সফরমেশন রেশিও বলে। একে নিম্নোক্ত ভাবে প্রকাশ করা যায়এখানে, Vp = প্রাইমারী ভােল্টেজ
Vs = সেকেন্ডারী ভােল্টেজ
Np = প্রাইমারী পঁাচ সংখ্যা |
Ns = সেকেন্ডারী প্যাচ সংখ্যা|
Ip = প্রাইমারী কারেন্ট
Is = সেকেন্ডারী কারেন্ট

0 Comments